স্ক্র্যাপ জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস, ভাটিয়ারিতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২৮

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডারের বিষক্রিয়ায় পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন।

মারা যাওয়া পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁদের সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ওই কারখানা থেকে ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তীব্র গ্যাসের গন্ধ, নৌকা ভিড়তে পারেনি

দুর্ঘটনার প্রভাব শুধু কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, কারখানা থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে, সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানার পাশের খালে ঢুকতে পারেননি। তাঁদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ঘাটে ভেড়াতে হয়েছে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দুটি নৌকা ইলিশ ধরে সাগর থেকে উপকূলের দিকে ফিরছিল। কিন্তু গ্যাসের গন্ধের কারণে তাঁরা উপকূলের দিকে আসতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুনতে পান তাঁরা। পরে কয়েকজন কারখানার এলাকায় গিয়ে দেখেন, অসুস্থ শ্রমিকদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন শ্রমিকের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অসতর্কতায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত

কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার সময় তিনি কারখানার বাইরে ছিলেন। কারখানা থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন মারা গেছেন এবং প্রায় তিনজন আহত হয়েছেন। কারখানায় গিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

তবে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, কারখানা থেকে ছয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভাটিয়ারির জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

একই সঙ্গে কারখানার ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, তার প্রভাব পড়েছে পাশের খাল ও নৌযান চলাচলেও।