বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বীজ কেন জামায়াত নেতার মাদ্রাসার কক্ষে?

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২৬

বন্যায় ফসলহারা কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল সরকারি সহায়তায়। সেই সহায়তার বীজধানই কৃষকের হাতে পৌঁছানোর আগেই পড়ে ছিল মাদ্রাসার একটি কক্ষে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৪ কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা বীজধান বিতরণ না করে মাদ্রাসায় রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন জামায়াত আমীর শামসুল আলম হেলালীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে খবর পেয়ে চরম্বা জামেউল উলুম মাদ্রাসায় গিয়ে ওই বীজধান মজুত অবস্থায় পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ।

পরে তিনি বীজধানগুলো দ্রুত কৃষকদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত শামসুল আলম হেলালী ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে সরকারিভাবে চরম্বা ইউনিয়ন জমায়েতের আমীর শামসুল আলম হেলালীর মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্য বীজধান বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিন্তু কৃষকের হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেগুলো মাদ্রাসার একটি কক্ষে রেখে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে বীজধানগুলো মজুত অবস্থায় দেখতে পায়।

পরে প্রশাসনের নির্দেশে ওই বীজধান সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল আলম হেলালী বলেন, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় সময়মতো ধান কৃষকদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে রাতেই সেগুলো কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, প্রতি কৃষককে ৫ কেজি করে বীজধান দেওয়া হয়েছিল।

চরম্বা ইউনিয়নের ৩৪ জন কৃষকের জন্য দেওয়া বীজধান একসঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় রাখা হয়েছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। তবে এভাবে বীজধান মজুত রাখার নিয়ম নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, ‘অন্য একটি কাজে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। মাদ্রাসার একটি কক্ষে ধানগুলো পাওয়া যায়।’ পরে সেগুলো দ্রুত কৃষকদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বন্যার পর একজন কৃষকের কাছে পাঁচ কেজি বীজধানও হয়তো শুধু বীজ নয়-নতুন করে মাঠে নামার আশার সমান।

সেই সহায়তা কৃষকের হাতে পৌঁছাতে দেরি কেন হলো, আর বরাদ্দের বীজধান মাদ্রাসার কক্ষে রাখার প্রয়োজনই বা পড়ল কেন-এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। প্রশাসনের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত বীজধান কৃষকের কাছে পৌঁছালেও, সরকারি সহায়তা বিতরণের এমন ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।