রিয়াজউদ্দিন বাজারের রক্তাক্ত দিনে কী করেছিলেন সাজ্জাদ আলম? তদন্তে মিলবে উত্তর

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫২

২৮৪ নামীয় আসামির তালিকায় ব্যবসায়ী সাজ্জাদ আলম। গুরুতর ধারায় মামলা হলেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত কতদূর? দেশত্যাগের গুঞ্জনেরও নেই দাপ্তরিক প্রমাণ

চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার ও নিউ মার্কেট এলাকা সেদিন যেন হঠাৎ করেই পরিণত হয়েছিল সংঘাতের মঞ্চে। তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৪।

রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে দিনদুপুরে হামলা, প্রকাশ্যে মারধর, অস্ত্রের প্রদর্শন এবং চারপাশে গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নগরীর ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক এলাকায়।

ওই দিনের সহিংসতার ঘটনায় পরে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। এফআইআর নম্বর ৩১ এবং জিআর নম্বর ৩৫৫। মামলাটির তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২৪, সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিট।

মামলায় দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৩২৫, ৩২৬, ১০৯, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে ২৮৪ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে রাখা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে।

এই দীর্ঘ তালিকার ১৭৮ নম্বর নামটি-ব্যবসায়ী সাজ্জাদ আলম। প্রশ্নটি এখানেই। এজাহারে গুরুতর ধারায় নাম থাকা এই ব্যক্তি এখন কোথায়? তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত হয়েছে কতটা? আর তদন্ত হয়ে থাকলে তার ফল কী?

বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য, সাজ্জাদ আলম ব্যবসায়ী পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিসরেও প্রভাবশালী ছিলেন। ৪ আগস্টের সহিংসতার সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ওই দিনের সংঘাতের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সহিংসতার নেপথ্যে অর্থের জোগান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনায় আর্থিক সহযোগিতা এবং অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও রয়েছে।

তবে তদন্তকারী সংস্থা এসব বিষয়ে কী তথ্য পেয়েছে-সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার প্রসঙ্গেও সাজ্জাদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী মহলের একটি সূত্রের দাবি, তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলের নির্দেশে পরিচালিত কথিত সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।

একই সূত্র তাঁর বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনায় অর্থসহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও করেছে।

অর্থের উৎস, লেনদেনের নথি, কল রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং ঘটনার সময়কার অবস্থান-এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে সাজ্জাদ আলমের প্রকৃত ভূমিকা।

স্থানীয়ভাবে আরও একটি দাবি প্রচলিত-সাজ্জাদ আলম তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ থাকার কারণে এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন।

সাজ্জাদ আলমকে ঘিরে আরেকটি আলোচনা-তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না। তবে তাঁর দেশত্যাগের বিষয়ে কোনো সরকারি বা দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে গুঞ্জনকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

তিনি দেশে থাকলে তাঁর অবস্থান কোথায়-এ প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মামলার একজন নামীয় আসামির অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য থাকা তদন্তের স্বাভাবিক অংশ।

আর যদি তিনি দেশেই থাকেন এবং নিয়মিত চলাফেরা করেন, তাহলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-সেটিও জনস্বার্থের প্রশ্ন।

সাজ্জাদ আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিক প্রশ্ন পাঠানো হয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয় এবং তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়।

তবে তাঁর কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং পরবর্তীতে তিনি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সহায়তায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে তদবিরের চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি. সাজ্জাদ আলমের ব্যাংক লেনদেন, সন্দেহজনক আর্থিক প্রবাহ, ঘটনার সময়কার অবস্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ ও অস্ত্রের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না-এসব বিষয় আইনানুগ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।