ফটিকছড়িতে গৃহবধূর মৃত্যু: স্বজনদের দাবি, নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৩

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামিহা হাকিম নিহা (১৯) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

তাঁদের দাবি, নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় নিহার এমন মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফটিকছড়ি পৌরসভার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের রাজু সোলতান বাড়ির প্রবাসী লোকমান হাকিমের মেয়ে সামিহা হাকিম নিহার সঙ্গে একই উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকার মো. মারুফ পারভেজের ছয় মাস আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়া নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তাঁরা একে অপরকে সন্দেহ করতেন এবং প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নিহার স্বামী মারুফ পারভেজ তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানান, নিহা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

পরে মারুফ ও তাঁর স্বজনেরা নিহাকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহার মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী ও স্বজনেরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানার পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহার মা রুপা আকতার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

তাঁর স্বামী মারুফ পারভেজ একাধিকবার নিহাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

রুপা আকতার আরও অভিযোগ করেন, সর্বশেষ তাঁর মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা রুপা আকতার বাদী হয়ে মেয়ের স্বামী মারুফ পারভেজসহ সুনির্দিষ্ট দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

ময়নাতদন্তের জন্য নিহার মরদেহ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি রবিউল আলম খান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।