অর্থজারি মামলায় রেল কর্মকর্তা মমিনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

তবুও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ!

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১৭

আদালতে অর্থজারি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে ৯ জুলাই। কিন্তু সেই পরোয়ানার অনলাইন কপি সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছেছে প্রায় দেড় মাস পর-২৩ আগস্ট।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্ব) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের নেতা মোঃ মমিনুল ইসলাম মামুনকে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে-আদালতের পরোয়ানা জারির পরও তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া কতটা এগিয়েছে?

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অর্থজারি মোকদ্দমা নম্বর ৩/২৪-এর আওতায় মোঃ মমিনুল ইসলাম মামুনকে ওয়্যারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পিতার নাম নূরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে, সিআরবিতে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পূর্ব) দায়িত্বে রয়েছেন।

বগুড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (সদর) গত ৯ জুলাই এ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের ওই নির্দেশের পরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রাম থানায় পরোয়ানার কপি পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। অবশেষে ২৩ আগস্ট আদালতের পরোয়ানার অনলাইন কপি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় এসে পৌঁছায়।

এতে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে আরও একটি প্রশ্ন-৯ জুলাই পরোয়ানা জারির পর ২৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসের ব্যবধান কেন? আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় এই বিলম্বের কারণ কী, সেটিও এখন আলোচনায়।

এদিকে আদালতের নির্দেশে এ-সংক্রান্ত পিসিপিআর তথ্য গত ২৩ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ আদালতের নির্দেশের বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

কোতোয়ালি থানার ওয়ারেন্ট অফিসার এএসআই সোহেল বলেন, গত ২৩ আগস্ট ওয়ারেন্টের কপি অনলাইনে তাঁরা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আজ-কালকের মধ্যে মূল কপি তাঁদের হাতে এসে পৌঁছাবে। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

থানা কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পর এখন মূল নজর আইনগত পদক্ষেপের দিকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া কীভাবে এবং কত দ্রুত এগোয়, সেটিই দেখার বিষয়।

তবে বিষয়টি শুধু একটি অর্থজারি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশ রেলওয়ের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক-দুই দিক থেকেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও তাৎপর্যের বিষয় হলো, গত ৯ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও সম্প্রতি তাঁকে রেল সচিবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-আদালতের পরোয়ানা জারির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব মহল জানত কি না, জানলে তাঁর বিরুদ্ধে এতদিন কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এখন দেখার বিষয়, বগুড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের জারি করা অর্থজারি মোকদ্দমা নং-৩/২৪ (টাকা ডিগ্রি জারী), বগুড়া সদর-এর পরোয়ানার মূল কপি হাতে পাওয়ার পর কোতোয়ালি থানা কী ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়।

একদিকে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, অন্যদিকে রেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ-এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

পরোয়ানা জারি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কেন কেটে গেল, থানায় কপি পৌঁছাতে এত দেরি হলো কেন এবং এখন আদালতের নির্দেশ কত দ্রুত কার্যকর হয়-এসব প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ।

এদিকে এ বিষয়ে মো. মমিনুল ইসলাম মামুন জানান, বগুড়ার বিষয় টা আমি গতকাল রাতের আগে টোটালি অবগত ছিলাম না, এখন যেহেতু জেনেছি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।