চট্টগ্রামে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে আমদানির অভিযোগে একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দরনগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার সাত্তার মঞ্জিল থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ জানান, মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়িটি দেশে আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের একটি দল অভিযান চালিয়ে চট্ট মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১ নম্বরের বিএমডব্লিউ গাড়িটি আটক করে।
পুরাতন যন্ত্রাংশের ঘোষণায় বিলাসবহুল গাড়ি!
কাস্টমস গোয়েন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মোংলা বন্দরে পুরাতন গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে বিলাসবহুল গাড়িকে তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে আমদানির একটি কৌশল শনাক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে গাড়ি আমদানি করে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে জব্দ হওয়া বিএমডব্লিউ গাড়িটির আমদানি-প্রক্রিয়া নিয়েও কাস্টমস গোয়েন্দাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের পরই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মালিক বিদেশে, মেলেনি আমদানির নথি
কর্মকর্তারা জানান, গাড়িটির বর্তমান মালিক মোহাম্মদ আইয়ুব দেশের বাইরে থাকায় তার স্ত্রী সুলতানা ফারহানা জাহানের কাছে গাড়িটির ক্রয় ও আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়।
তবে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে তিনি গাড়িটির ক্রয় কিংবা আমদানির বিষয়ে কোনো দলিল বা তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এতেই শেষ হয়নি জটিলতা। কর্মকর্তারা একাধিকবার গাড়িটির চাবি চাইলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।
চাবি না দেওয়ায় বাড়ে সন্দেহ
গাড়িটির আমদানি-সংক্রান্ত কোনো দলিল কিংবা ক্রয়ের নথি দেখাতে না পারা এবং একই সঙ্গে গাড়িটির চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর শেষ পর্যন্ত বিএমডব্লিউ গাড়িটি জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এখন গাড়িটির আমদানি, মালিকানা, ক্রয় এবং শুল্ক পরিশোধ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, ‘কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গাড়িটি কীভাবে দেশে এসেছে, আমদানির সময় কী ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং এতে কোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কাস্টমসের বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর।
