সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রবাসে গিয়ে ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে!

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৬

পরিবারের অভাব-অনটন দূর করে স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় তিন বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর তরুণ মো. জামশেদুল ইসলাম (আলাউদ্দিন)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

নির্মাণকাজ করতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. জামশেদুল ইসলাম চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আব্দুস সালামের বাড়ির মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।

ছয় বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই থেমে গেল তার জীবনসংগ্রাম।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে পরিবারের হাল ধরার আশায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান জামশেদুল। সেখানে তিনি আবুধাবির মুসাফ্ফা এলাকায় বসবাস করতেন এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নিহতের ভাগিনা মো. জোবায়েত জানান, গত ১৬ আগস্ট মুসাফ্ফা থেকে আল আইন এলাকায় নির্মাণকাজ করতে যান জামশেদুল। সেখানে একটি ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎ সিঁড়ি থেকে পড়ে যান তিনি। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

দুর্ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন। এরপর শুরু হয় মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই।

আইসিইউর বিছানায় দিনের পর দিন মৃত্যুকে হার মানানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হলো না জামশেদুলের।

শনিবার বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে প্রবাসের মাটিতে থেমে যায় ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের সব স্বপ্ন ও সংগ্রাম।

তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর বোয়ালখালীর বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবারের পরিবেশ। যে ছেলে পরিবারের অভাব দূর করার আশায় প্রবাসে গিয়েছিলেন, সেই ছেলের মৃত্যুসংবাদ এখন পরিবারের সদস্যদের কাছে যেন বিশ্বাস করাও কঠিন।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এ সপ্তাহের মধ্যে জামশেদুলের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন জামশেদুল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই নির্মম এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার জীবন।

এখন প্রিয়জনদের অপেক্ষা শুধু একটাই-প্রবাসে যাওয়া সেই তরুণকে শেষবারের মতো নিজের মাটিতে ফিরিয়ে আনার।