লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতার। এক দলের সামনে নকআউট পর্বের প্রস্তুতি, অন্য দলের সামনে বিদায়ের অপেক্ষা।
কিন্তু মাঠের ৯০ মিনিটের গল্প লিখল ভিন্ন এক নাটক। শেষ মুহূর্তে কান আয়হানের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল তুরস্ক।
গ্রুপ ‘ডি’-তে আগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া যুক্তরাষ্ট্র এই ম্যাচে একাদশে এনেছিল নয়টি পরিবর্তন। আগামী বুধবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচের কথা মাথায় রেখে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা দুই হারে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। গোলশূন্য দুটি ম্যাচের হতাশা নিয়েই মাঠে নেমেছিল তারা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য স্বাগতিকদের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কর্নার থেকে আসা বল পেয়ে সেলটিকের ডিফেন্ডার অস্টেন ট্রাস্টি বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম গোল।
তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। দীর্ঘ ৬২টি প্রচেষ্টার পর অবশেষে ৬৩তম চেষ্টায় দেখা মেলে কাঙ্ক্ষিত গোলের।
১০ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা আর্দা গুলের মার্ক ম্যাকেঞ্জিকে ফাঁকি দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন বারিস ইলমাজের দিকে। ইলমাজের নিখুঁত ক্রস থেকে সমতাসূচক গোল করেন গুলের।
সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে তুরস্ক। ৩১ মিনিটে প্রথমবারের মতো পিছিয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। গুলেরের চমৎকার পাসে বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠে আসেন এরেন এলমালি।
তাঁর তৈরি সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান বারিস ইলমাজ। প্রথমার্ধ শেষ হয় তুরস্কের ২-১ ব্যবধানের লিড নিয়ে।
বিরতির পর অবশ্য পাল্টা জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ৪৯ মিনিটে ম্যাকেঞ্জির লং থ্রো থেকে বল পেয়ে সেবাস্তিয়ান বেয়ারহল্টার নিচু শটে গোল করে সমতা ফেরান। ম্যাচ আবার ফিরে যায় নতুন উত্তেজনায়।
ঘড়ির কাঁটা ৬০ মিনিট স্পর্শ করতেই মাঠে নামেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের এই তারকা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। তাঁকে মাঠে নামতে দেখে সোফি স্টেডিয়ামজুড়ে ধ্বনিত হতে থাকে ‘ইউএসএ, ইউএসএ’ স্লোগান।
পুলিসিচ মাঠে নেমেই কয়েকটি দারুণ আক্রমণ তৈরি করেন, গতি আর সৃজনশীলতায় প্রাণ ফেরান যুক্তরাষ্ট্রের খেলায়।
কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোল আর আসেনি। উল্টো ৭২ মিনিটে কেনান ইলদিজের শট অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে না গেলে তুরস্ক আরও আগেই এগিয়ে যেতে পারত।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই আসে নাটকের শেষ দৃশ্য।
অতিরিক্ত সময়ে বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া সুযোগ থেকে কান আয়হান কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দেন। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়েন গ্যালারিতে থাকা তুর্কি সমর্থকেরা।
জয়টি অবশ্য তুরস্কের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে তারা আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছিল।
তবু টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর এই সাফল্য তাদের জন্য রয়ে গেল এক গর্বের স্মৃতি।
অন্যদিকে বিশ্বকাপ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ছিল চলতি আসরে প্রথম পরাজয়। তবে গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠছে তারা।
এখন তাদের চোখ বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে।

