মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৩-২ গোলের জয়। বৈরী আবহাওয়া, লাল কার্ড, স্বাগতিক দর্শকদের তুমুল চাপ-সব প্রতিকূলতাকে পাশে সরিয়ে রেখে অসাধারণ দৃঢ়তায় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় খেলা।
অপেক্ষার পর মাঠে নামলেও দুই দলের ফুটবলে ছিল না কোনো সতর্কতার ছাপ। শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই।
প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত নিজেদের দখলে নেয় ইংল্যান্ড। ৩৬ মিনিটে বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহাম।
সেই উচ্ছ্বাস শেষ হওয়ার আগেই আবার আঘাত হানে ইংল্যান্ড। মাত্র দুই মিনিট পর প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন বেলিংহাম। মুহূর্তেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
তবে স্বাগতিক মেক্সিকো সহজে হার মানার দল নয়। বিরতির আগে ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেস গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। এরপর আরও কয়েকটি আক্রমণ শানালেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৫ মিনিটে জ্যারেল কোয়ানসাহ সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড।
সংখ্যাগত সুবিধা পেয়ে মেক্সিকো যখন ম্যাচে ফেরার আশা দেখছিল, ঠিক তখনই আরও বড় ধাক্কা খায় তারা।
৫৯ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে অধিনায়ক হ্যারি কেইন কোনো ভুল করেননি। তাঁর নিখুঁত শটে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে।
তবে শেষ কথা তখনও বলা হয়নি। ৬৮ মিনিটে ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হলে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় মেক্সিকোর পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসে। রাউল হিমেনেজ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন।
এরপর শুরু হয় মেক্সিকোর একের পর এক আক্রমণ। বলের দখল, কর্নার ও শট-বেশির ভাগ পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ছিল অবিচল। আর গোলবারের নিচে জর্ডান পিকফোর্ড কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জয়ের ভিত অটুট রাখেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে ইংল্যান্ড শিবির। দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও যে মানসিক দৃঢ়তা তারা দেখিয়েছে, তা এই জয়কে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
প্রতিকূলতার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় উতরে যাওয়া ইংল্যান্ড এখন বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। সেখানে এই লড়াকু মানসিকতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

