কাপ্তাই রাস্তার মোড়ে মাদক সম্রাজ্ঞী ’মরিয়ম আকতার ঝর্ণার ওপেন মাদক বাণিজ্য

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৩:১২

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথার রেল লাইনের পর মোহড়া এলাকা এখন মাদক সম্রাজ্ঞী ’মরিয়ম আকতার ঝর্ণার ওপেন মাদক বাণিজ্য অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মরিয়ম আকতার প্রকাশ ঝর্ণা নামের এক নারী এই অঞ্চলের মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার ছত্রছায়ায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার গাঁজা ও ইয়াবা কেনাবেচা হচ্ছে, যা স্থানীয় জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

ম্যানেজমেন্টে পুলিশ সোর্স  :
অনুসন্ধানে জানা যায়, মরিয়ম আকতার প্রকাশ ঝর্ণা এককভাবে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার সহযোগী হিসেরে রয়েছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, উক্ত সিন্ডিকেটে রয়েছে একাধিক পুলিশের সোর্স । পুলিশের সোর্সদের সাথে মরিয়ম আক্তার ঝর্নার কোন প্রকার ভুল বোঝাবুঝি হলেই উক্ত পুলিশের সোর্সদের কথামতো পুলিশ অন্যয় এভাবে মাদকের স্পটে হানা দিয়ে মাদক না পেলেও ঝর্ণার আত্মীয়-স্বজনদের গ্রেফতার করে নিয়ে আসেন থানা ও ডিবি অফিসে এমনই অভিযোগ করেছেন ঝর্ণা।

পুলিশের সোর্সদের মাধ্যমে  মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের  চাঁদগাও জোনের কর্মকর্তাদের ২ লক্ষ টাকা মাসিক প্রদান করেন।   রেপিডএকশন ব্যাটেলিয়ান র্যাব কে ২ লক্ষ টাকা  ডিবি উত্তরকে ২ লক্ষ টাকা সোর্সদের মাধ্যমে প্রদান করে নির্ভয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে:

গ্রেপ্তার ও মোটা অংকের ঘুষ: গত ৯ জুন বায়েজিদ থানার পুলিশের  এ এস আই জয়নাল আবেদীন  চাঁন্দগাও থানাধীন  মোহড়া  এলাকায় অবৈধ  ভাবে বেআইনি প্রবেশ করে  মরিয়ম আকতার প্রকাশ ঝর্ণার মাদক স্পর্টে এসে ঝর্ণার স্বামী ও বোন জামাইকে আটক করে বায়েজিদ  থানায় নিয়ে যায় এবং গভীর রাতের আধারে সোর্সদের  মধ্যস্থতায় ৭ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে তাদের মুক্ত করতে স্বশরীরে থানায় হাজির হয় মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আকতার ঝর্ণা, যা বায়েজিদ থানা ও এর আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলে উক্ত গ্রেপ্তার ও লেনদেনের সত্যতা পাওয়া যাবে।

ডিবি পুলিশের এসআই ইমামের সংশ্লিষ্টতা: গত সপ্তাহে ডিবি বন্দর জোনের এস আই ইমাম একদিনে শহরের একাধিক মাদক স্পটে হানা দেয় এবং মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আকতার ঝর্ণার ভাই-বোনকে একটি শিশুসহ গ্রেফতার করলেও, সোর্সদের মধ্যস্থতায় পরবর্তীতে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মরিয়ম আকতার প্রকাশ ঝর্ণার ভাই ও বোনের ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মাদক সিন্ডিকেট শুধু সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে না, বরং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় মোহড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে চাইলে তাকেও ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আকতার ঝর্না এখন খুবই কৌশলী হয়ে সোর্স বেলালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ি হোসেনসহ স্থানীয় অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিউজ করিয়ে নিজের মাদক ব্যবসার পরিধি আরো বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, মোহড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মাসিক ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার চুক্তিতে তিনি এলাকাটিকে নিরাপদ ‘মাদক স্পট’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাদক পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে। এলাকাবাসি জানান মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আকতার ঝর্ণার মাদক মাদক বিক্রি জন্য উক্ত এলাকায় একটি কলোনী তৈরী করেছে, প্রতিটি ঘরে তার মাদকের ষ্টোর বাণিয়ে রেখেছে।

প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
মাদকের এই ভয়াবহ থাবা চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন ক্ষুব্ধ। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন প্রতিবেদককে বলেন:

১. মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আকতার ঝর্নাকে ও তার সিন্ডিকেট সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
২. পুলিশের সোর্স বেলালের মোবাইল নাম্বারের লিস্ট বের করে তার সাথে জড়িত অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম বের করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. মোহড়া ও কাপ্তাই রাস্তার মোড় এলাকাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র‌্যাব এবং পুলিশের সমন্বয়ে প্রতিদিন নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসি প্রতিবেদককে জানান চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলে জনস্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে এই মাদক স্পর্ট গুঁড়িয়ে দিতে পারে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে।