সিটি গেট চেকপোস্টে একটি দূরপাল্লার বাস থেকে নামানো একটি ব্যাগ ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার দিন ব্যাগ উদ্ধারের কথা অস্বীকার করা হলেও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যরা ব্যাগটি নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ব্যাগ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হয়। কিন্তু জব্দ তালিকায় সাক্ষীর স্বাক্ষর, ব্যাগ খোলার ঘটনা এবং দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে রয়েছে একাধিক অসংগতি।
অভিযোগ উঠেছে, ব্যাগটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আত্মসাৎ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।
চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট পুলিশ চেকপোস্টে একটি ব্যাগ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুলিশের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ ও সরকারি নথির মধ্যে দেখা দিয়েছে গুরুতর অসংগতি।
ঘটনার দেড় মাস পর পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হলে সেই অসংগতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রশ্ন-যে ব্যাগ পুলিশের জিম্মায় নেওয়ার কথা প্রথমে অস্বীকার করা হয়েছিল, সেটিই পরে কীভাবে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলার আলামত হলো?
অভিযোগ আরও গুরুতর। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাস থেকে উদ্ধার করা তালাবদ্ধ ব্যাগে আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা ছিল।
পুলিশের কয়েকজন সদস্য ওই ইয়াবা আত্মসাৎ করে ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করেছেন-এমন অভিযোগেরও তদন্ত চলছে। তবে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা থাকার বিষয়টি এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনার দিন, গত ৪ জুন, কক্সবাজার থেকে ২৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সোহাগ পরিবহনের একটি স্ক্যানিয়া বাস।
বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে বাসটি সিটি গেট চেকপোস্টে থামে। চেকপোস্টের অদূরের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার প্রায় ১২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ফুটেজে ধরা পড়ে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ।
ফুটেজ অনুযায়ী, বাসের নিচের লাগেজ বক্স খোলার পর সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে একটি বড় খয়েরি রঙের ব্যাগ নামিয়ে রাখা হয়। বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও ব্যাগটির মালিক শনাক্ত করা যায়নি।
এরপর আকবরশাহ থানার এএসআই আরিফ ব্যাগটি হাতে নিয়ে চেকপোস্টের দিকে চলে যান। ফুটেজে তাঁর সঙ্গে ব্যাগটির কাছে এসআই সাজ্জাদ ও এএসআই মেজবাহ উদ্দিনকেও দেখা যায়।
এখানেই প্রথম বড় প্রশ্নটি তৈরি হয়। সরকারি অন-ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী, ওই সময় সিটি গেট চেকপোস্টে এএসআই আরিফের কোনো ডিউটি ছিল না।
বাসটির সুপারভাইজার মোহাম্মদ হাছানের বক্তব্যেও ব্যাগটি পুলিশের জিম্মায় যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
গণমাধ্যম দেওয়া হাছানের ভাষ্য, ২৮ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজার থেকে রওনা হওয়ার পর সিটি গেটে পুলিশ বাসে উঠে তল্লাশি চালায়। যাত্রীরা নিজেদের ব্যাগ বুঝে নিলেও একটি খয়েরি রঙের ব্যাগের কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি।
ট্যাগ নম্বর মিলিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট আসনের যাত্রীও বাসে নেই। অথচ বাসে তল্লাশি চলার সময় ওই যাত্রী তাঁর আসনেই ছিলেন।
হাছান জানান, যাত্রীকে না পাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ তাঁর মোবাইল নম্বর নেয় এবং ব্যাগটি নিজেদের জিম্মায় রেখে দেয়। এরপর ২৭ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে চলে যায়। ব্যাগটি তাঁর সামনে খোলা হয়নি বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধার কিংবা ওই ব্যাগ থেকে ইয়াবা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তখন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ৪ জুন থানা এলাকায় ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের একটি ঘটনা ঘটেছে এবং সেটির আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেই ইয়াবা কোনো বাস থেকে উদ্ধার হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন কোনো বাস থেকে ব্যাগ জব্দ বা ব্যাগের ভেতর ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা তাঁর জানা ছিল না।
কিন্তু পরে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হওয়ার পর বদলে যায় পুলিশের বক্তব্য।
আকবরশাহ থানা-পুলিশ এখন দাবি করছে, ৪ জুন সিটি গেট থেকে একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, যে ব্যাগ উদ্ধারের কথা ঘটনার পর অস্বীকার করা হয়েছিল, তদন্ত শুরু হওয়ার পর সেই ব্যাগই হয়ে উঠেছে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কেন্দ্রবিন্দু।
রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে জব্দ তালিকা নিয়ে। পুলিশ বর্তমানে যে ৪০০ পিস ইয়াবা জব্দের তালিকা দেখাচ্ছে, সেখানে সাক্ষী হিসেবে সোহাগ পরিবহনের সুপারভাইজার মোহাম্মদ হাছানের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে হাছান জানিয়েছেন, তিনি ওই জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করেননি। তাঁর বক্তব্য, ব্যাগটি তাঁর সামনে খোলাও হয়নি। এই বক্তব্য সত্য হলে জব্দ তালিকায় থাকা সাক্ষীর স্বাক্ষর কীভাবে এলো-তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর যদি জব্দ তালিকাটি যথাযথভাবে প্রস্তুত হয়ে থাকে, তাহলে হাছানের বক্তব্যের সঙ্গে তার এত বড় অমিল কেন-সেটিও তদন্ত করে দেখার বিষয়।
পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, বাস থেকে উদ্ধার করা তালাবদ্ধ ব্যাগটি প্রথমে নগরের একটি আবাসিক হোটেলে এবং পরে আকবরশাহ নন্দন হাউজিংয়ের একটি বাসায় নেওয়া হয়। এরপর সেটি আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ব্যাগটি যদি পুলিশের জিম্মায় নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কোথায়, কার হেফাজতে এবং কতক্ষণ ছিল-এই প্রশ্নগুলোর নির্ভুল উত্তর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ব্যাগটি তালাবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয়ে থাকলে সেটি কোথায় খোলা হয়েছিল, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ব্যাগ খোলার সময় কী কী আলামত পাওয়া গিয়েছিল-এসবেরও নথিভুক্ত প্রমাণ থাকার কথা।
ঘটনার দিন সিটি গেট চেকপোস্টের ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন এসআই সাজ্জাদ। লোকবল হিসেবে ছিলেন এএসআই মেজবাহ উদ্দিন, কনস্টেবল মো. মোমিন এবং দামপাড়া পুলিশ লাইনস থেকে আসা আরও চারজন কনস্টেবল।
কিন্তু সরকারি রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্বে না থাকলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এএসআই আরিফ। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকেই ব্যাগ হাতে নিয়ে চেকপোস্টের দিকে যেতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে ছিলেন চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া তারিকুল ইসলাম নামের এক কনস্টেবল এবং আমিনুল নামের এক সোর্সও।
এসআই সাজ্জাদ প্রথমে গণমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ওই দিন তাঁর কোনো ডিউটি ছিল না। পরে দায়িত্ব বণ্টনের নথিতে তাঁকে চেকপোস্টের ইনচার্জ হিসেবে পাওয়া যায়। এরপর তাঁর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
এএসআই মেজবাহ অবশ্য বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনাই অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো ব্যাগ পাওয়া না গেলে ইয়াবা উদ্ধারের প্রশ্নও আসে না। পুলিশকে বেকায়দায় ফেলতে কেউ ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে সিসিটিভিতে ব্যাগ হাতে দেখা যাওয়া এএসআই আরিফ প্রথমে গণমাধ্যমে বলেন, ঘটনার সময় তিনি কর্নেলহাট এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন। পরে জানান, একজন ওয়ারেন্টের আসামিকে ধরতে গিয়ে পরে চেকপোস্টের দিকে যান।
একই ঘটনার বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে এই ভিন্নতা তদন্তের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো, ব্যাগটিতে আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা ছিল এবং তা আত্মসাৎ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। তবে অভিযোগটির গুরুত্ব কম নয়। কারণ, ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যে কয়েকটি বিষয় নথি ও বক্তব্যের মধ্যে অসংগতির জন্ম দিয়েছে।
সিসিটিভিতে ব্যাগ দেখা যাচ্ছে, ব্যাগ পুলিশের জিম্মায় যাওয়ার কথা বাসের সুপারভাইজার বলছেন, সরকারি রোস্টারে দায়িত্বের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিতির অমিল রয়েছে, প্রথমে পুলিশ ব্যাগ উদ্ধারের কথা অস্বীকার করেছে, পরে সেই ব্যাগ থেকেই ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে এবং জব্দ তালিকায় সাক্ষীর স্বাক্ষর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ফলে তদন্তের মূল প্রশ্ন এখন শুধু ‘৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল কি না’-এতে সীমাবদ্ধ নেই।
প্রশ্ন হলো, ব্যাগটি কে উদ্ধার করল, কার জিম্মায় ছিল, কোথায় নেওয়া হলো, কখন খোলা হলো, কে খুলল, ব্যাগে আসলে কী ছিল এবং জব্দ তালিকায় সাক্ষীর স্বাক্ষর কীভাবে এলো?
আর যদি ৪০০ পিসই উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে তার সঠিক উৎস, উদ্ধারস্থল ও জব্দ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ কি নথি ও সিসিটিভি দিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব?
বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী গণমাধ্যমকে বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সিএমপির পক্ষ থেকে ইনকোয়ারি টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সূত্র-আজকের পত্রিকা
সিটি গেটের এই ঘটনায় তদন্তের ফল শুধু কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ বা অপ্রমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। এর সঙ্গে পুলিশের জব্দ ও আলামত সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নও জড়িত।
তদন্তে অন্তত এসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হওয়া জরুরি-৪ জুন সন্ধ্যায় সিটি গেট চেকপোস্টে খয়েরি ব্যাগটি কে উদ্ধার করেছিলেন? সরকারি রোস্টারে ডিউটি না থাকা এএসআই আরিফ ঘটনাস্থলে কেন ছিলেন এবং ব্যাগটি তাঁর হাতে গেল কীভাবে? ব্যাগটি যদি পুলিশের জিম্মায় নেওয়া হয়ে থাকে, তা কোথায় এবং কার হেফাজতে রাখা হয়েছিল? ব্যাগটি কোথায় খোলা হয়েছিল এবং তখন কারা উপস্থিত ছিলেন? ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের সময়কার ভিডিও, জব্দের নথি ও অন্যান্য আলামত কোথায়? জব্দ তালিকায় সাক্ষী হিসেবে থাকা মোহাম্মদ হাছান যদি স্বাক্ষর না করে থাকেন, তাহলে তাঁর নাম ও স্বাক্ষর সেখানে কীভাবে এল? ঘটনার পর পুলিশ কেন বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেছিল? দেড় মাস পর তদন্ত শুরু হওয়ার পর পুলিশের বক্তব্য কেন বদলে গেল? ব্যাগটি যদি সত্যিই তালাবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে সেটির সিল, তালা, প্যাকেট ও আলামতের ধারাবাহিক হেফাজতের (chain of custody) প্রমাণ কোথায়? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি যদি সঠিক হয়, তাহলে অভিযোগ করা বিপুল পরিমাণ ইয়াবার বিষয়ে কোনো প্রমাণ আছে কি না?
সিটি গেটের এই ব্যাগ-কাণ্ড পুলিশের জব্দ প্রক্রিয়া, আলামতের নিরাপত্তা, সরকারি দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা এবং তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা।
সিসিটিভি ফুটেজ, ডিউটি রোস্টার, জব্দ তালিকা, সাক্ষীর বক্তব্য ও পুলিশের হেফাজতে থাকা আলামত-এই পাঁচটি সূত্রের তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল সত্য।
