মইজ্যারটেক চেকপোস্টের জব্দ ইয়াবা তালিকার আড়ালে লুকিয়ে কোন রহস্য!

আইনের জালে স্বামী-স্ত্রী, কিন্তু বাকি অর্ধেক মাদক গেল কার পকেটে?

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ২০:৪২

মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের সাফল্যের খবর সাধারণত স্বস্তির বার্তা হয়ে আসে। কিন্তু কর্ণফুলীর মইজ্যারটেক চেকপোস্টে পরিচালিত একটি অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া ইয়াবার হিসাব নিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

অভিযানে পুলিশের জব্দ তালিকায় পাঁচ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবার উল্লেখ থাকলেও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ১২ হাজার পিস। সেই দাবি সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে-বাকি ছয় হাজার ২০০ পিস ইয়াবা কোথায়?

এই প্রশ্নই এখন কর্ণফুলীজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্ণফুলী থানার এসআই ইমরান ফয়সালের বিরুদ্ধে উঠেছে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগ।

যদিও তিনি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তবুও ঘটনাটি ঘিরে জনমনে দেখা দিয়েছে গভীর সংশয়। কারণ অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থারই একজন সদস্য।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামী-স্ত্রীকে আটকের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকেও উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

তাদের দাবি, ঘটনাস্থলেই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা গণনা করা হয়েছিল, যার পরিমাণ পুলিশের মামলায় উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। এরপর থেকেই জব্দ তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে।

অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত সংখ্যা ও মামলার জব্দ তালিকায় উল্লেখিত সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।

যদি সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে শুধু একটি মামলার আলামত নয়, বরং পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে এসআই ইমরান ফয়সালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে অন্য একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ নাকচ করে বলেন, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ইয়াবা গণনা করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তার দাবি, আত্মসাতের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

একই বক্তব্য দিয়েছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা গণনা করে যত পাওয়া গেছে, সেই সংখ্যার ভিত্তিতেই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের নথিতে যা আছে, সেটিই প্রকৃত উদ্ধারকৃত পরিমাণ।

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, যদি প্রকৃতপক্ষে ১২ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের কোনো তথ্য বা সাক্ষ্য থেকে থাকে, তাহলে সেই অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হোক।

আর যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট রাখার স্বার্থেও জরুরি।

কারণ একটি প্রশ্নের উত্তর না মিললে আরও অসংখ্য প্রশ্ন জন্ম নেবে-উদ্ধার হয়েছিল ঠিক কত পিস ইয়াবা? জব্দ তালিকার সংখ্যা নিয়েই বা কেন তৈরি হলো বিতর্ক? আর এই বিতর্কের শেষ কোথায়?

এখন সবার দৃষ্টি অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।

কারণ এই তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে, এটি নিছক গুজব, নাকি রাষ্ট্রীয় আলামত ব্যবস্থাপনায় আরও গভীর কোনো অনিয়মের ইঙ্গিত।