ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাই, পরদিন ব্যাংক-বিকাশে টাকা সরানোর অভিযোগ: গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৫৩

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতুর (নতুনব্রিজ) উত্তর পাশে পথরোধ করে ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ছোরা ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জ্যারটেক থেকে অটোরিকশাযোগে নতুন ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন রিদোয়ান (২৫) ও তার স্বজন আব্দুর রাজ্জাক।

শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাশে ব্রিজের শেষ মুখে পৌঁছালে আরমান (২৯), আরফান ওরফে ইরফান (২৪), করিম ওরফে পঞ্চ (২১) এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজন ছুরি নিয়ে তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাংক কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, হাতঘড়ি, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার, টেবিল লাইট ও পোশাকসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

ছিনতাইয়ে বাধা দিলে আসামিরা রিদোয়ান ও তার সঙ্গে থাকা স্বজনদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে আরফান ওরফে ইরফান ছুরি দিয়ে রিদোয়ানের ছোট ভাই রিফাতুল ইসলামের বাম উরু ও বাম হাতের মধ্যম আঙুলে আঘাত করেন।

পরে আহত রিফাতুল ইসলামকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এখানেই শেষ নয়, এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার পরদিন ৮ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে রিদোয়ানের ইস্টার্ন ব্যাংকের হিসাব থেকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভিসা কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন বিকাশ মার্চেন্ট নম্বরে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়।

একই সময়ে রিদোয়ানের বিকাশ নম্বর থেকে ৬ হাজার টাকা এবং তার ছোট ভাইয়ের বিকাশ নম্বর থেকে আরও ৯ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

পরে ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রিজ এলাকায় পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন কয়েকজনকে আটক করেছে-এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রিদোয়ান।

সেখানে তিনি আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে নিজের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার এবং ছিনতাই করা মোবাইল দুটি রাকিব (১৯) নামে আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করার কথা জানান বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

পরে কোতোয়ালী থানাধীন পুরাতন রেলস্টেশন এলাকা থেকে রাকিবকে আটক করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদরঘাট থানাধীন মাদারবাড়ী রেলগেট এলাকা থেকে গোলাম হোসেন (৩৮) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়।

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম হোসেন ওই টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন।

ঘটনার বিষয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির ও চাক্তাই ফাঁড়ির আইসি এসআই মোবারক হোসেনও তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় রিদোয়ান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।