এক আসন, বারবার আদালত: সরোয়ারের প্রার্থিতা নিয়ে ফের লড়াই

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:১০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে এবার আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যেন সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন-সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করে নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়েছে।

আবেদনে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি সরোয়ার আলমগীরের সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ওই দিনই তিনি শপথ নেন।

তবে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার সূত্রপাত আরও আগে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পর ঋণ খেলাপের অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে। নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর।

এরপর ২৭ জানুয়ারি সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করা হয়।

হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ফলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখার আদেশ দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিজয়ী হন সরোয়ার আলমগীর। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।

পরে জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া ওই আদেশে দ্রুত সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের সেই রায়ের পরও অবশ্য শেষ হয়নি আইনি লড়াই। এবার রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

ফলে চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ও সংসদে তার অংশগ্রহণ ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া নতুন করে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।