সিএনজি চুরির অভিযোগে আটক, শাস্তির বদলে তওবা ও ১০০ রাকাত নফল নামাজ

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২০

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে স্থানীয়রা। তবে তাঁদের থানায় না দিয়ে তওবা পড়ানো হয়।

পরে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন বারইয়ারহাট এলাকার বেলাল হোসেন ও পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন দিন আগে মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তিন সদস্যের একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে চক্রটির সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে চক্রটির তিন সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে স্থানীয়ভাবেই বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে আর চুরির সঙ্গে জড়িত না হওয়ার জন্য তওবা পড়ানো হয়। এরপর তাঁদের ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটিকে স্থানীয়ভাবে ‘শাস্তির বদলে সংশোধনের সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই কিংবা আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং তাঁদের কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন না করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বলেন, বুধবার তাঁদের আটক করা হয়। পরে মারধর শাস্তি হিসেবে তওবা পড়িয়ে নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের এই উদ্যোগ সম্পর্কে অবগত নন মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমি অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।

ফলে সিএনজি অটোরিকশা চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটকের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না থাকায় ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি।