চট্টগ্রাম বন্দরে যেন কাটছে না দুর্ঘটনার রেশ। এক দিন আগে বহির্নোঙরে তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষের পর এবার বন্দরের আলফা অ্যাঙ্কোরেজে মধ্যরাতে সংঘর্ষে জড়াল দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার।
তবে পরপর দুই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা পরিবেশ দূষণের ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি ফিরেছে বন্দরজুড়ে।
শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি আনাসা’ প্রায় ৩৫ হাজার ৩৫০ টন স্ল্যাগ নিয়ে আলফা অ্যাঙ্কোরেজে প্রবেশ করছিল।
এ সময় নোঙর করা বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি জাহাব জাহান’-এর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জাহাজটি।
প্রবল স্রোতের মধ্যে ঘটে যাওয়া এ সংঘর্ষে এমভি আনাসার ডান পাশের (স্টারবোর্ড) কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংঘর্ষের পর অবশ্য দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। জাহাজ দুটি পরস্পরের কাছ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নোঙর করে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, প্রবল স্রোতের মধ্যে আনাসা আলফা অ্যাঙ্কোরেজে প্রবেশের সময় নোঙর করা জাহাব জাহানের সামনের অংশে সামান্য ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। জাহাজে পানি প্রবেশ বা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই জাহাজের ২১ জন নাবিকই নিরাপদে আছেন। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
২০০০ সালে নির্মিত বাংলাদেশের পতাকাবাহী এমভি জাহাব জাহানের দৈর্ঘ্য ১৯০ মিটার।
অন্যদিকে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি আনাসা নির্মিত হয় ২০১১ সালে জাপানের ইওয়াগি শিপবিল্ডিংয়ে। জাহাজটি এর আগে নিও বিচউড ও আইভিএস বিচউড নামে পরিচিত ছিল।
সংঘর্ষে আনাসার স্টারবোর্ড অংশের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জাহাজে পানি প্রবেশ করেনি। একই সঙ্গে কোনো পরিবেশ দূষণের ঘটনাও ঘটেনি বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগ কান্ডারি-৮ ও বিএলভি লুসাই।
হঠাৎ কেন ঘটল এ সংঘর্ষ-এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হবে।
তদন্তে বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে দুই জাহাজের অবস্থান ও গতি, দুর্ঘটনার সময়কার স্রোতের পরিস্থিতি এবং পাইলটেজ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো।
অর্থাৎ শুধু সংঘর্ষের মুহূর্ত নয়, জাহাজ দুটি কী অবস্থানে ছিল, কী গতিতে চলছিল এবং প্রবল স্রোতের প্রভাব কতটা ছিল-সবকিছুই তদন্তের আওতায় আসবে।
এর ঠিক এক দিন আগে, ১৪ আগস্ট বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরে আরেকটি জাহাজ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) বহনকারী তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি সি স্পাইক’ নোঙর করা বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি সানশাইনে’র সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
সেই ঘটনাতেও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। কোনো তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি জাহাজ সংঘর্ষের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে বন্দরের নৌযান চলাচল, স্রোতের প্রভাব এবং পাইলটেজ ব্যবস্থাপনার দিকে।
তবে সর্বশেষ ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশ দূষণ না হওয়া এবং দুর্ঘটনার পর নৌযান চলাচল স্বাভাবিক থাকায় আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
তদন্ত শেষ হলে আলফা অ্যাঙ্কোরেজের মধ্যরাতের এই সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
