আগে পুলিশ, পরে সাংবাদিক-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি

গ্রেপ্তার ২ পলাতক ৩

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৫৭

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে পুলিশ পরিচয়ে একটি বাসায় ঢুকে তল্লাশি চালানোর পর নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিন নারীর ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

টাকা না দেওয়ায় বাসায় ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৫৫ বছর বয়সী এক নারী আজ বুধবার হালিশহর থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় সাখাওয়াত হোসেন (৪০), মো. মাইনউদ্দিন (৪৬), মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬) ও বাবুলকে (৩৬) আসামি করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকার বাসায় ওই নারী তাঁর দুই পুত্রবধূকে নিয়ে ছিলেন।

তাঁর স্বামী ও দুই ছেলে কাজের সূত্রে বাইরে ছিলেন। এ সময় পাঁচ ব্যক্তি বাসায় ঢুকে নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তাঁরা বাসার বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি শুরু করেন।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ওই নারী ও তাঁর দুই পুত্রবধূ তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চান।

তখন ওই ব্যক্তিরা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। বাসায় ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চলছে-এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করে তাঁরা তল্লাশি চালিয়ে যেতে থাকেন।

একপর্যায়ে ওই নারী ও তাঁর দুই পুত্রবধূর মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন তাঁরা। বাসাটি নিজের বলে ওই নারী জানালেও তাঁরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে আসামিরা বাসায় ভাঙচুর করেন।

তাঁদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। এ সময় ওই ব্যক্তিরা প্রতিবেশীদের সঙ্গেও হুমকিমূলক আচরণ করেন।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে হালিশহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঁচ ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন মণ্ডল বলেন, পাঁচ ব্যক্তি প্রথমে নিজেদের পুলিশ এবং পরে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তাঁদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।