বিকাশ সেবা কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গড়ে উঠেছে বিশাল একটি সাইবার অপরাধ চক্র। চক্রটির সাথে বিকাশ ও রবি অফিসের বর্তমান ও সাবেক কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। বিকাশ অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রতিদিন চট্টগ্রামসহ সারা দেশে চোরাই মোবাইল চুরি হওয়ার মর্হুতের মধ্যে বিকাশ এবং নগদেন পিন রিসেট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিকাশ ও নগদের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে বিশাল এক সাইবার অপরাধ চক্র। সাইবার অপরাধ চক্রটির কারণে বিকাশ এবং নগদে টাকা রাখা জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাড়িয়েছে বলেও অনেকে জানান। সম্প্রতি সাংবাদিক নজরুল ইসলামের মোবাইর চুরির পর বিকাশের পিন রিসেট করে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় এক যুবকের সিসি টিভি ফুটেজ ধরা পড়লেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত যুবককে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে পুলিশ সাইবার অপরাধে জড়িত বিকাশের কর্মকর্তা কর্মচারী ও মোবাইর চোর চক্রের গ্যাংসহ গ্রেফতার করার চেষ্ঠা করছেন বলে জানান।
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী এলাকা থেকে চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোন চুরির পর তার বিকাশের পিন রিসেট করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অননুমোদিতভাবে অনলাইন লোন গ্রহণ, ক্যাশ আউট ও একাধিক নাম্বারে অর্থ লেনদেন করেছে একটি সাইবার অপরাধ চক্র। সাইবার অপরাধ চক্রের সাথে বিকাশ সেবার লোকজন ও রবি সেবার লোকজন জড়িত থাকার দাবি করে
এ ঘটনায় সাত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে ৬ সেপ্টম্বর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিনিয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অভিযোগে উল্লেখ করা সাত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডের শিমলা অল ইন ওয়ান নামের একটি দোকানের বিকাশ এজেন্ড ০১৪০৮৮০৭৫৯৩ শিমলা ঝাল বিতান, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি যার সঙ্গে ০১৮৪৫৫৩০১৯১ নম্বরের লেনদেনের তথ্য রয়েছে, ০১৭৬৬৬৮২৩৬৯ নম্বর ব্যবহারকারী অজ্ঞাত ব্যক্তি, বিকাশের প্রধান গ্রাহক সেবা কর্মকর্তা নিশাত রহমান, বিকাশের চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার ও আঞ্চলিক অপারেশন প্রধান অনুপম দে, আজিয়াটা রবি লিমিটেডের সিনিয়র রিজোনাল হেড সাঈদ চৌধুরী এবং বিকাশ অনলাইন লোন সেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/ম্যানেজারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোতোয়ালী মোড় থেকে গাড়িযোগে কাজীর দেউড়ি-স্টেডিয়াম এলাকায় যাওয়ার পথে সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি চুরি হয়। মোবাইল ফোনটি হারানোর বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান এবং তার বিকাশ নম্বরের লেনদেন নিরাপদ রাখার অনুরোধ করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, এরপরও তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে একাধিক অননুমোদিত আর্থিক কার্যক্রম সংঘটিত হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন সকাল ৭টা ৪২ মিনিটে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিকাশ-সিটি ব্যাংক অনলাইন লোন সেবা থেকে ২ হাজার টাকা লোন নেওয়া হয়। সকাল ৮টা ২২ মিনিটে স্টেশন রোডের শিমলা ঝাল বিতান, বিকাশ এজেন্ট নম্বর ০১৪০৮৮০৭৫৯৩-এর মাধ্যমে ১৩ হাজার টাকা লেনদেন/ক্যাশ আউট করা হয়।
পরে সকাল ৮টা ৪৯ মিনিটে ০১৮৪৫৫৩০১৯১ নম্বরে আরও একটি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। সাংবাদিক নজরুল ইসলামের দাবি, এসব লেনদেন তিনি নিজে করেননি এবং কাউকে তার পক্ষে করার অনুমতিও দেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টা ৩ মিনিটে ০১৭৬৬৬৮২৩৬৯ নম্বর থেকে একজন ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে বিকাশ হেড অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে মুরাদপুরের বিকাশ সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে ওই নম্বরটি বিকাশের কোনো কর্মকর্তার নম্বর নয় বলে জানানো হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
সিম ডিঅ্যাক্টিভেশন নিয়েও সন্দেহ
মোবাইল ফোন চুরির পর নিজের মোবাইল নম্বর ০১৮১২৩৭৫৭৫৫-এর সেবা বন্ধ বা ডিঅ্যাক্টিভেশনের কোনো কার্যক্রম করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী।
তিনি জানান, ১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কোতোয়ালী এলাকার একটি রবি সেবা কেন্দ্র থেকে একই নম্বরের সিম পুনরায় সংগ্রহ করেন। সিমটি অন্য মোবাইল ফোনে ব্যবহার করার পর কল করতে পারলেও সারাদিন কোনো কল আসছিল না। পরদিন মুরাদপুর রবি সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে তার নম্বরের বিষয়ে ডিঅ্যাক্টিভেশন/সেবা-সংক্রান্ত কোনো অনুরোধ করা হয়েছিল বলে তথ্য পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।মোবাইল চুরির সাথে সথে অভিযোগকারী বিষয়টি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানান এবং ১ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগে জিডি নম্বর ৪৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরো ঘটনার তদন্তে স্টেশন রোডের শিমলা ঝাল বিতানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিকাশ এজেন্টের লেনদেনের তথ্য, লেনদেনের সময়কার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ের আবেদন করেছেন তিনি। এ ছাড়া ০১৮৪৫৫৩০১৯১ ও ০১৭৬৬৬৮২৩৬৯ নম্বরের ব্যবহারকারী শনাক্ত, বিকাশ-সিটি ব্যাংক অনলাইন লোন গ্রহণের সময় ব্যবহৃত ডিভাইস অন্যান্য প্রযুক্তিগত লগ পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাংবাদিক নজরুল ইসলামের দাবি মোবাইর হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল থেকে বিকাশ থেকে উত্তোলন করার ক্ষেত্রে বিকাশের লোকজন ও মোবাইল চোর চক্র সরাসরি জড়িত। যদি বিকাশ নিজেই মানুষের টাকা চুরির সাথে জড়িয়ে পড়ে সেখানে মানুষের জান মালের নিরাপত্তা কোথায়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার এস আই রাশেদুল ইসলাম জানান, মোবাইল চুরির পর বিকাশের পিন রিসেট করে অর্থ লেনদেনে জড়িত যুবককে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে, যে দোকান থেকে টাকা লেনদেন হয়েছে সেখান থেকে আরও কিছু তথ্য এবং আশ পাশের লোকজনের সাথে কথা বলে বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসি টিভি ফুটেজ হাতে আসার পর বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহেদ নুর বলেন, সাংবাদিকের মোবাইল চুরি হওয়ার বিকাশের পিন রিসেট করে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আমরা ঘটনায় জড়িত এক যুবকের কিছু ছবি ও ভিডিও হাতে পেয়েছি, বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।
