সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশ বিএডিসির ‘নকল’ সার, বারবার কেন ডায়মন্ড সিমেন্ট?

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৬

চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরের সাগরপথে আবারও একটি বড় চোরাচালান চেষ্টার পর্দা ফাঁস করল বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও রাসায়নিক সার জব্দ হয়েছে, আটক হয়েছেন ২২ জন।

ঘটনাটি শুধু একটি সফল অভিযান হিসেবেই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে-সাম্প্রতিক সময়ে কেন একই ব্র্যান্ডের সিমেন্ট বারবার চোরাচালানের ঘটনায় উঠে আসছে?

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা চট্টগ্রাম বহিঃনোঙর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালান।

পরে রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) রাসায়নিক সারের নকল মোড়ক ব্যবহার করে সার এবং ডায়মন্ড সিমেন্ট অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তথ্যটি পাওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে পরিচালিত অভিযানে সন্দেহভাজন তিনটি কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪০০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট এবং বিএডিসির নকল মোড়কে মোড়কজাত ২৫০ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার জব্দ করা হয়।

একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত তিনটি কার্গো বোট ও ২২ জনকে আটক করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। জব্দ করা মালামাল ও কার্গো বোটের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

তবে এই অভিযানের পর আরেকটি বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাগরপথে পরিচালিত একাধিক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বারবার ডায়মন্ড সিমেন্ট জব্দ হওয়ার ঘটনা কেবল কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয়-সে প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

চট্টগ্রামে একাধিক সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও কেন একই ব্র্যান্ডের সিমেন্ট একের পর এক অভিযানে সামনে আসছে, সেটি এখন অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

এই পুনরাবৃত্তির অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান অপরাধে জড়িত-এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন শৃঙ্খল, ডিলার নেটওয়ার্ক কিংবা অন্য কোনো পক্ষ এই চালানগুলোর অপব্যবহার করেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রশ্ন রয়েছে, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিমেন্ট কোম্পানিকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা কোস্ট গার্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা অন্য কোনো তদন্তকারী সংস্থা

এ বিষয়ে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করেছে কি না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

চোরাচালান ঠেকাতে একটি চালান জব্দ হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। কিন্তু যদি একই ধরনের পণ্য, একই রুট বা একই ব্র্যান্ড বারবার একই ধরনের অপরাধে সামনে আসে, তাহলে শুধু বাহক বা কার্গো আটক করাই যথেষ্ট নয়।

পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল, অর্থায়ন, সংগ্রহ, পরিবহন ও গন্তব্য-সব স্তরেই গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

কারণ একটি চালান ধরা পড়া একটি ঘটনার সমাপ্তি হতে পারে, কিন্তু একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি অনেক সময় আরও বড় বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।