হোয়াটসঅ্যাপে ৫০ লাখের দাবি, রাতে বাসার গেটে পরপর দুই গুলি

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৫

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাসার গেট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রুনা টাওয়ার নামে একটি ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরপর দুইটি গুলির শব্দে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ। ১১ তলা ভবনটির দুই ছেলে প্রবাসে ব্যবসা করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি।

ইউসুফ নিষিদ্ধঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর আজিজ গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না।

অন্ধকারের মধ্যেই প্যান্ট-শার্ট পরা দুই যুবক ভবনের সামনে এসে তাঁকে গেটের ভেতরে রেখে গেট বন্ধ করতে বলেন।

এরপরই গেট লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি ছোড়েন তাঁরা। গুলি ছুড়ে ওই দুই যুবক হেঁটে চলে যান। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জড়ো হন। পরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

ভবনমালিক মোহাম্মদ ইউসুফের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়।

ওই ভয়েস বার্তায় পরিবারের সদস্যরা কোথায় কী করেন, তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত এবং কোথায় কোথায় বাড়ি রয়েছে-এসব তথ্য জানার দাবি করা হয়। একই সঙ্গে এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়।

টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান ইউসুফ।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই রাত ১১টার দিকে ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পাশের এক দোকানি জানান, তিনি তখন দোকানের ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দুই যুবককে দৌড়ে চলে যেতে দেখেন।

নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীরের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দুই যুবক প্রথমে তাঁকে গেটের ভেতরে রেখে গেট বন্ধ করতে বলেন। এরপরই গেট লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

ঘটনার পর গুলির শব্দ ও আতঙ্কে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে পরে সেখানে যায় পুলিশ।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, হামজারবাগ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি।

চট্টগ্রাম নগরে চাঁদাবাজির অভিযোগে হামলা ও ভাঙচুরের আরও কয়েকটি ঘটনা এর আগে আলোচনায় আসে।

গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

এর আগে গত ১৩ জুন নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনার পর চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংশ্লিষ্টরা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মোবারক হোসেন ইমন সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

গত ২৯ জুলাই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি ১০ দিনের রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

হামজারবাগে সর্বশেষ গুলি ছোড়ার ঘটনাটি সেই চাঁদাবাজির অভিযোগের ধারাবাহিকতার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

তবে বিদেশি নম্বর থেকে ৫০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।