ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে চট্টগ্রামে চসিকের বিশেষ অভিযান

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫০

চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে বের করে ধ্বংসের পাশাপাশি লার্ভা নিধনে ওষুধ প্রয়োগ ও আইনগত ব্যবস্থা-সব মিলিয়ে একযোগে মাঠে নেমেছে সংস্থাটি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশনায় নগরের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

চসিক সূত্র জানায়, ক্রাশ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট তিন ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ সময় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে মশার লার্ভা নিধনে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

শুধু অভিযান পরিচালনাতেই থেমে থাকেনি চসিক। মশার প্রজননস্থল সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পরিচালনা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতও।

অভিযান চলাকালে নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতন করা হয়।

বিশেষ করে বাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও আশপাশে যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

কার্যক্রমে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মশক ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তার ভাষ্য, বাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সামান্য অসতর্কতায় জমে থাকা পানিও মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।

ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে চায় চসিক। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চসিক জানিয়েছে, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম আরও জোরদার করা হয়েছে। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এদিকে নগরবাসীর প্রতি বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চসিক।

বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের পাশাপাশি এসব স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।