back to top

চট্টগ্রামে বিদ্যানন্দের ‘১ টাকায় কুরবানির বাজার’—যেখানে মেলে সম্মান ও স্বাধীনতা

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬ ২৩:৩৫

“দান নয়, সম্মানের অধিকার”—এই অসামান্য দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিতে আবারও এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের ৫ শতাধিক ছিন্নমূল ও দরিদ্র পরিবারের জন্য তারা আয়োজন করেছে অভিনব ‘১ টাকায় কুরবানির বাজার’। সাধারণ ত্রাণের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্য নেওয়া নয়, বরং নামমাত্র মূল্যে নিজেদের পছন্দমতো পণ্য কিনে এবারের ঈদে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন সুবিধাবঞ্চিত এই মানুষগুলো।

অভাবীদের নিজস্ব ‘সুপারশপ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এটি যেন অভিজাতদের কোনো সুপারশপ, তবে ক্রেতা এখানে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। চাল, ডাল, চিনি, সুজি, ডিম, তেল, নতুন কাপড় ও ব্যাগসহ প্রায় ১৭ রকমের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা সাজানো হয়েছে সেখানে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এই বাজারের পণ্যের মূল্যতালিকা চমকে দেওয়ার মতো:

  • ১ টাকায়: ১ কেজি চাল

  • ১ টাকায়: ১ কেজি সুজি

  • ৩ টাকায়: ১ লিটার সয়াবিন তেল

  • ১ টাকায়: ৪ প্যাকেট নুডলস

কেনাকাটার নিয়ম: প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ১০ টাকার সমমূল্যের ‘ডামি কয়েন’। এই কয়েন দিয়ে তারা সুপারশপ ঘুরে নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রায় ৬০০-৭০০ টাকার সমমূল্যের পণ্য স্বাধীনভাবে কিনে নিচ্ছেন। কেউ তাদের হাতে ত্রাণের প্যাকেট ধরিয়ে দিচ্ছে না, গ্রহীতারা সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে নিজেদের বাজার নিজেরাই করছেন।

মেয়রের প্রশংসা ও উদ্বোধন

শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টায় অভাবী মানুষের এই স্বপ্নের সুপারশপের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন:

“দরিদ্র মানুষদের নাগরিক সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে সাহায্য করার যে অভিনব পদ্ধতি বিদ্যানন্দ চালু করেছে সেটার জন্য তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। একইসাথে অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে ঈদ পালন করার জন্য তারা যে অভাবী মানুষের পাশে নামমাত্র মূল্যে খাদ্যসামগ্রী ও নতুন কাপড় নিয়ে দাঁড়িয়েছে সেটার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করছি বিদ্যানন্দের এই যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

‘সহযোগিতা শুধু দান নয়, ভালোবাসা’

আয়োজকরা জানান, এটি নিছক কোনো সহায়তা নয়, বরং আত্মমর্যাদা রক্ষার এক অনন্য প্রচেষ্টা। বিদ্যানন্দ বিশ্বাস করে, সাহায্য এমন হওয়া উচিত যেখানে গ্রহীতার মর্যাদা অটুট থাকে এবং তারা নিজেকে সমাজের একজন সম্মানিত অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন বলেন,

“আমরা চাই না কেউ সাহায্য নিতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করুক। ঈদ সবার জন্য আনন্দের—এই আনন্দ যেন সম্মানের সাথে প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগ সমাজের বিত্তবানদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সাহায্য মানেই যে শুধু করুণা বা দান নয়, বরং তা যে সম্মান ও ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য মাধ্যম হতে পারে, ‘১ টাকার কুরবানির বাজার’ তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ। একটি সহমর্মী ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে বিদ্যানন্দ দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।