বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নাটকীয়তার সব রং ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত হাসল মিসর। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ফারাওরা।
আত্মঘাতী গোলে লিড হারানোর হতাশা পেছনে ফেলে স্নায়ুর লড়াইয়ে দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে দলটি।
শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চ। দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করছিল, তবে প্রথম সাফল্য আসে মিসরের।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে এমাম আশৌরের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধজুড়ে সেই লিড ধরে রেখে আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিরতিতে যায় ফারাওরা।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায়। ৫৫ মিনিটে মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
এরপর দুই দলই বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তুললেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল সমানতালে। মাঝমাঠের দখল, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ আর রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ম্যাচ গড়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে।
সেখানেই নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয় মিসর। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শট নিতে এসে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন হ্যারি সুটার।
এরপর জ্যাকসন আরভাইন ও আওয়ার মাবিল গোল করলেও চতুর্থ শটে লুকাস হেরিংটন মিস করলে কার্যত শেষ হয়ে যায় অজিদের আশা।
অন্যদিকে মিসরের ফুটবলাররা ছিলেন নিখুঁত। মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, তারকা খেলোয়াড় মোহামেদ সালাহ এবং হোসাম আবদেলমাগুইদ—চারজনই টানা চারটি শট সফলভাবে জালে পাঠিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন এবং উল্লাসে ভাসান মিসরকে।
পরিসংখ্যানও ম্যাচে মিসরের আধিপত্যের ইঙ্গিত দেয়। পুরো ম্যাচে ৫৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল তারা।
যদিও আক্রমণে অস্ট্রেলিয়াও কম যায়নি; মিসরের ১৪টি শটের বিপরীতে তারা নিয়েছে ১৫টি শট।
তবে পাসিংয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল ফারাওরা। ৮৯ শতাংশ সফলতায় তারা ৬৯৬টি পাস সম্পন্ন করে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার পাস ছিল ৫১৮টি।
আত্মঘাতী গোলে ধাক্কা খাওয়ার পরও ভেঙে না পড়ে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে স্নায়ুর পরীক্ষায় উতরে গেছে মিসর। সেই জয়ের সুবাদেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে জায়গা করে নিল ফারাওরা।

