চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটে স্ত্রী শাহনাজ বেগম (২২) হত্যা মামলায় স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহনাজ। উন্নত চিকিৎসা করানোর কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে নিয়ে আসেন স্বামী নেজাম উদ্দিন।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার বদলে তাকে নিয়ে ওঠেন নগরীর বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজায়।
হোটেলটির ৩১৯ নম্বর কক্ষে স্বামী-স্ত্রী অবস্থান করছিলেন। এর কিছু সময় পর ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি তখন নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। অসুস্থ স্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে নগরীতে এনে কেন হাসপাতালে নেওয়া হলো না-এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুরু হয় তদন্ত।
নিহত শাহনাজ বেগমের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ মো. নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এরপর ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
মঙ্গলবার রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. নেজাম উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় স্ত্রী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা এই মামলার রায়ে অবশেষে শাহনাজ বেগম হত্যা মামলার বিচারিক পর্বের সমাপ্তি হলো।
