জামিনের পরও কারাগারে চিন্ময়: বাকি দুই মামলায় আটকে মুক্তি

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪২

দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তবে এই জামিনের পরও আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় কারামুক্তির পথে এখনো আইনি বাধা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।

ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে করা দুই মামলায় তাঁর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষে আজ রোববার রুলটি ‘অ্যাবসলিউট’ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ওই দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সেই রুলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে পুলিশি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা অপর দুই মামলায় গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ওই মামলাগুলোতেও জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল ‘অ্যাবসলিউট’ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন আদালত।

তবে চার মামলায় জামিন পেলেও এখনই কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না চিন্ময়। তাঁর আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা থাকায় আপাতত কারামুক্তি সম্ভব হচ্ছে না।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মূলত ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। আর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন স্থগিত রয়েছে।

অপর চার মামলার মধ্যে ইতিপূর্বে দুটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল ‘অ্যাবসলিউট’ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। রোববার আরও দুই মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর হলো। তবে বাকি দুটি মামলা থাকায় আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জয়া ভট্টাচার্য, অনুপ কুমার সাহা, মিন্টু কুমার মন্ডলসহ অন্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন।

দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন।

তিনি বলেন, দুই মামলায় হাইকোর্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। একই ঘটনার পর পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পৃথক মামলাও করা হয়।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

দুই মামলায় হাইকোর্টের জামিন তাঁর আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় আনলেও, বাকি মামলাগুলোর কারণে এখনই কারামুক্ত হচ্ছেন না চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। আর তাঁর জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অধ্যায় অপেক্ষা করছে।