চউকে ৬০ দিনে চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের ৮ উদ্যোগ-হয়রানি নয়, দ্রুত সেবা!

অবৈধ নির্মাণে কঠোরতা, নাগরিক সেবায় গতি

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৫

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ৬০ দিন কেটেছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, নাগরিক সেবায় গতি, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোরতা, উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় নানা উদ্যোগে।

নগর পরিকল্পনায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো থেকে শুরু করে বিনিয়োগ আকর্ষণ-স্বল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক ক্ষেত্রে সক্রিয়তার জানান দিয়েছে চউক।

১৪ জুন ২০২৬ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। ১২ আগস্ট তাঁর দায়িত্বকালের ৬০তম দিন।

১৪ জুন থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৫৯ দিন অতিবাহিত হলেও এই সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে নগরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্যোগ ও তৎপরতা দেখা গেছে।

স্বল্প সময়ের এই কর্মপর্বে তাঁর অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রয়েছে-জনবান্ধব সেবা, পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগর, আইন প্রয়োগে কঠোরতা, উন্নয়ন প্রকল্পের গতি, জলাবদ্ধতা মোকাবিলা, অংশীজনের সমন্বয় এবং চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা।

সকাল ৯টার অফিস, নাগরিক সেবায় গতি

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চউকের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতাকে গুরুত্ব দেন প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরাসরি দপ্তর ও শাখা পরিদর্শন, উপস্থিতি যাচাই এবং অনুপস্থিতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুধু উপস্থিতি নিশ্চিত করাই নয়, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা, নথি সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

তাঁর অবস্থান-নাগরিক সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন অযথা ঘুরতে না হয়, হয়রানির শিকার না হন এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্বে পড়তে না হয়।

এই লক্ষ্যেই ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও ইমারতের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পর্যালোচনা করে আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা কমানো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নকশাবহির্ভূত ভবনে ‘জিরো টলারেন্স’

পরিকল্পিত নগর গড়ার পথে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অনুমোদনহীন নির্মাণ ও নকশার ব্যত্যয়। এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন চউক চেয়ারম্যান।

অনুমোদনহীন ভবন, অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি, সেটব্যাক লঙ্ঘন ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কল্পলোক আবাসিক এলাকায় নকশাবহির্ভূত ভবন ও অনুমোদনহীন গুদাম সিলগালা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা রয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি জমি, খাল-নালা এবং চউকের বিভিন্ন প্রকল্পে অবৈধ দখল কিংবা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে উচ্ছেদের অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের পার্কিংয়ে নজর, যানজট কমানোর উদ্যোগ

চট্টগ্রাম নগরের যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন চউক চেয়ারম্যান।

এ কারণে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করে অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার, পার্কিং এবং অগ্নিনিরাপত্তার বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হয়েছে।

হাসপাতালের নিজস্ব পার্কিং দখলমুক্ত করা, রোগী ও স্বজনদের জন্য কার্যকর পার্কিং নিশ্চিত করা এবং সড়ক দখল করে গাড়ি রাখা বন্ধে সময়সীমাসহ কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

নগরের যানজট নিরসনে এই উদ্যোগকে শুধু পার্কিং ব্যবস্থাপনা নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনায় নিয়ম ফিরিয়ে আনার একটি অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

তিন বড় প্রকল্পে গতি আনার তাগিদ

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে চউক চেয়ারম্যানের অগ্রাধিকারের তালিকায়।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্প দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং নিয়মিত অগ্রগতি তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শুধু দপ্তরে বসে প্রকল্পের অগ্রগতি জানার পরিবর্তে প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে প্রবর্তক মোড়, হিজড়া খাল, কাপাসগোলা ও চাক্তাই খালসহ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ, কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সেবা সংস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য, কাজের গতি বাড়ানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করা।

৪২ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিতে মাঠে চউক

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ৬০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম দেখেছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি। ৭ জুলাই ২০২৬ চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়, যা ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

প্রচণ্ড এই বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ তৈরি হলে চউকের টিমকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় করা হয়।

চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক করা এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

পরদিন ৮ জুলাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সঙ্গে জরুরি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি, তাৎক্ষণিক করণীয়, রেগুলেটর সার্বক্ষণিক সচল রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দেন চউক চেয়ারম্যান।

জলাবদ্ধতার সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ওয়াসা ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

লক্ষ্য ছিল একদিকে তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ কমানো, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কার্যকারিতা মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করা।

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশেও চউক

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে চউকের পক্ষ থেকে। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ লাঘবে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়।

১৫ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চাল ও খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়। চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও এই সময়ের কর্মতালিকায় যুক্ত হয়েছে।

ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য প্রণয়নাধীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫–২০৫০-এর কাজও রয়েছে অগ্রাধিকারের তালিকায়।

মাস্টারপ্ল্যানটি ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রগতি তদারকি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তবে এই পরিকল্পনাকে শুধু বিশেষজ্ঞদের টেবিলের পরিকল্পনা হিসেবে না দেখে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

চউক চেয়ারম্যানের বক্তব্যের মূল দর্শন-একটি এলাকার সমস্যা সেই এলাকার মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই নাগরিকদের যৌক্তিক মতামত যাচাই-বাছাই করে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে ৬০ দিনের জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া, সরাসরি মতামত এবং Web GIS প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে যুগোপযোগী নগর পরিকল্পনার জন্য নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশকর্মী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মতামত গ্রহণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগের ভাবনা

নগর পরিকল্পনার পাশাপাশি চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও আবাসন সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সেবা সংস্থা ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ট্রাফিক বিভাগ, নির্বাচিত প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চউক চেয়ারম্যান।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রামের আবাসন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে হাটহাজারী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় আধুনিক আবাসন ও স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়নের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থাৎ চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরায়ণকে শুধু বর্তমানের সমস্যা সমাধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিকল্পিত সম্প্রসারণ, আবাসন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত করার চিন্তা সামনে এসেছে।

পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরের আহ্বান

নগর উন্নয়নের সঙ্গে নাগরিক সচেতনতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাল-নালায় বর্জ্য ও পলিথিন না ফেলা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নগরবাসীকে উন্নয়ন প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কারণ অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি নগরবাসীর আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়-এই বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ৬০ দিনে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের কর্মতৎপরতার কেন্দ্রে ছিল মূলত শৃঙ্খলা, সেবা, আইন, প্রকল্প, জলাবদ্ধতা, মানবিক সহায়তা, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ-এই আটটি ক্ষেত্র।

তবে চট্টগ্রামের বাস্তবতা বলছে, সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, চলমান প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়ন, অবৈধ নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন-সব ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা জরুরি।

দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই চউককে জনবান্ধব, গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং দুর্নীতি ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

ফলে প্রথম ৬০ দিনের উদ্যোগকে এখন অনেকেই দেখছেন একটি প্রাথমিক কর্মপর্ব হিসেবে।

এই তৎপরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, চলমান প্রকল্পগুলো কত দ্রুত দৃশ্যমান ফল দেয় এবং নাগরিক সেবায় কতটা স্থায়ী পরিবর্তন আসে-সেটিই হবে পরবর্তী সময়ের বড় পরীক্ষা।

তবে প্রথম ৬০ দিনের কর্মতালিকা অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট করেছে-চট্টগ্রামের নগর ব্যবস্থাপনায় শুধু পরিকল্পনা নয়, মাঠে নেমে বাস্তবায়ন, শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চাইছে চউক।