ব্যাংকের ভোল্টে টাকা থাকার কথা। প্রতিদিন লেনদেন শেষে সেই টাকা গুনে হিসাব মেলানোর কথা। ভোল্টে কত নগদ ঢুকল, কত বের হলো-তারও থাকার কথা নথি। এর ওপর রয়েছে শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং অডিটের ব্যবস্থা।
তারপরও অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই শুধু টাকা কে নিয়েছে-তা নয়। প্রশ্ন হলো, এত বিপুল অর্থ কমে গেল কীভাবে এবং এতদিন তা ধরা পড়ল না কেন?
লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের ওই শাখায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ৯ আগস্ট।
নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থ এবং ভোল্টে সংরক্ষিত টাকার হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল ধরা পড়ে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী হিসাব-নিকাশ, ভোল্টের হিসাব, রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায় বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ২২/৪৩৮। দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় করা মামলায় অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮) বাদী হয়েছেন।
মামলায় নাম রয়েছে শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন এমন মো. জাফরুল্লাহ তানভীরের (২৫)। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। দুজনকেই গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ নয়। বরং এখান থেকেই বড় প্রশ্নগুলোর শুরু।
এজাহার অনুযায়ী, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভোল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট হিসাব মেলানোর সময় ঘাটতি ধরা পড়ে। ব্যাংকের অভিযোগ, তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
এরপর ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় ভোল্টের টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন কামরুল।
কিন্তু মামলার এই অভিযোগের সঙ্গে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে-ঘাটতিটি যদি একদিনে তৈরি না হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিদিনের হিসাব-নিকাশে তা ধরা পড়ল না কেন?
জাফরুল্লাহর পরিবার বলছে, ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকলে এত দীর্ঘ সময় ব্যাংকের নিয়মিত হিসাব, তদারকি কিংবা অভ্যন্তরীণ অডিটে তা শনাক্ত না হওয়ার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এই প্রশ্নের উত্তরই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‘বড় বান্ডিলের’ ভেতরে ছোট নোট?
মামলার এজাহারে কামরুল হোসেনের কথিত জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ভোল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলের মধ্যে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের ছোট নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে মনে হতো সেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রয়েছে, অথচ প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল কম।
এটি মামলার অভিযোগের অংশ এর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তবে অভিযোগটি সত্য হলে প্রশ্ন আরও গুরুতর হয়ে ওঠে-নোট গণনা, বান্ডিল যাচাই এবং ভোল্টের নগদ অর্থের দৈনিক সমন্বয় কীভাবে করা হতো?
একটি বান্ডিলের ওপরের অংশ দেখে ভেতরের অর্থের পরিমাণ ধরে নেওয়া হলে, কোটি কোটি টাকার নগদ ব্যবস্থাপনায় সেই পদ্ধতি কতটা নিরাপদ-তাও তদন্তের বিষয়।
‘ইশরাত এগ্রো’তে গেল ব্যাংকের টাকা?
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জাফরুল্লাহ তানভীরের দেখাশোনার শর্তে ওই অর্থ বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেখানে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগের বিপরীতে জাফরুল্লাহর বাবা আজিম উল্লাহর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি বলছেন, তাঁর ছেলে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, এমনকি লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নন। তাঁর দাবি, ছেলে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আজিম উল্লাহর প্রশ্ন, ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা তাঁর ছেলের কাছে দেওয়া হয়েছিল-এমন কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণ তাঁদের দেখানো হয়নি।
‘রাত ১টায় ফোন, তারপর ব্যাংক-থানা’
জাফরুল্লাহর পরিবার যে ঘটনাপ্রবাহের কথা বলছে, সেটিও তদন্তে যাচাই করার মতো গুরুত্বপূর্ণ। আজিম উল্লাহর দাবি, ৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাঁর স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন আসে।
বলা হয়, তাঁর ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছেন। টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা কিংবা কত টাকা-তা পরিষ্কার করা হয়নি। তাঁর ছেলেকেও ফোনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই অন্যদিনের মতো জাফরুল্লাহকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান বলে দাবি আজিম উল্লাহর।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে তাঁরা রাতে ব্যাংকে যান। ব্যাংকের ভেতরে ঢুকতে না পেরে কোতোয়ালী থানায় বিষয়টি জানান।
পরে পুলিশের সঙ্গে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ব্যাংকে গেলে প্রথমে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ কৌশলে ব্যাংকে প্রবেশ করে জাফরুল্লাহ ও কামরুলকে থানায় নিয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের।
এই ঘটনাপ্রবাহের সত্যতা যাচাই করতে ব্যাংক ও কোতোয়ালী থানার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা যেতে পারে বলে দাবি করেছেন আজিম উল্লাহ।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, কামরুল হোসেন মাঝেমধ্যে তাঁর ছেলেকে লাভে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ তা ফেরত নিতেন। তবে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা জাফরুল্লাহর কাছে দেওয়া হয়েছিল-এমন প্রমাণ তাঁদের দেখানো হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ, জাফরুল্লাহকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এমনকি তাঁর কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা জানতে পেরেছেন। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে তদন্ত প্রয়োজন।
বহিরাগত একজন ব্যাংকের ভোল্টের অর্থে কীভাবে জড়ালেন?
মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন-এ তথ্যটি তদন্তের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ তিনি যদি ব্যাংকের ভোল্টের অর্থ সরানোর সঙ্গে জড়িত হয়ে থাকেন, তাহলে ব্যাংকের ভেতরের অর্থের নিয়ন্ত্রণে একজন বহিরাগত কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন?
কামরুলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের ধরন কী ছিল? তাঁদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না? ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ব্যাংক ট্রান্সফার, নগদ লেনদেন, ফোনকল কিংবা ডিজিটাল যোগাযোগে কোনো যোগসূত্র আছে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে অভিযোগের বাস্তব ভিত্তিও স্পষ্ট হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের চোখে শুধু ক্যাশ ইনচার্জের দায় নয়
ব্যাংকিং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মনে করেন, ভোল্টে এত বড় অঙ্কের ঘাটতি পাওয়া গেলে শুধু ক্যাশ ইনচার্জকে দায়ী করে তদন্ত শেষ করা উচিত নয়।
তাঁর মতে, শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, ভোল্টের নিরাপত্তা, চাবি ও অ্যাক্সেস, ক্যাশ গণনা, দৈনিক হিসাব, সিসিটিভি এবং দায়িত্ব বণ্টন-সবই তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।
বিশেষ করে এক বছরের বেশি সময় ধরে যদি ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে পারেননি কেন-এই প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
কারণ এখানে কারও ব্যক্তিগত অর্থের বিষয় নয়। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থটি বিভিন্ন গ্রাহকের আমানত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তাঁদের কাছ থেকে একটি কমলা রঙের অনার ৬০০ প্রো এবং একটি আইফোন ১৬ প্রো জব্দ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের স্ক্রিন রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভও জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
এই ডিজিটাল উপকরণগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ তদন্তকে নতুন দিক দিতে পারে। বিশেষ করে কামরুল ও জাফরুল্লাহর যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, খামার ব্যবসা এবং কথিত বিনিয়োগের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না-তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই ঘটনায় তদন্তকারীদের সামনে অন্তত কয়েকটি প্রশ্ন স্পষ্টভাবে দাঁড়িয়েছে-প্রথমত, ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি ঠিক কখন থেকে তৈরি হয়েছে?
দ্বিতীয়ত, প্রতিদিনের ক্যাশ ও ভোল্টের হিসাব কারা যাচাই করতেন? তৃতীয়ত, ভোল্টে প্রবেশের অনুমতি, চাবি ও অ্যাক্সেস কার কার হাতে ছিল? চতুর্থত, সিসিটিভি ফুটেজে কারা কখন ক্যাশ সেকশন ও ভোল্ট এলাকায় প্রবেশ করেছেন?
পঞ্চমত, কথিত ‘বান্ডিল সাজানোর’ প্রক্রিয়া কতদিন চলেছে এবং তা কারা দেখেছেন? ষষ্ঠত, জাফরুল্লাহ তানভীরের সঙ্গে কামরুল হোসেনের আর্থিক সম্পর্কের কোনো নথিভুক্ত প্রমাণ আছে কি না? সপ্তমত, ‘ইশরাত এগ্রো’র অর্থের উৎস কী? অষ্টমত, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো পরিদর্শনে এই ঘাটতি ধরা পড়েনি কেন? নবমত, ৯ আগস্ট রাতে ব্যাংকে জাফরুল্লাহকে আটকে রাখার অভিযোগের সত্যতা কী? দশমত, ব্যাংকের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় কোথায় এবং কতটা ব্যর্থতা ঘটেছিল?
এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত এখানেই। ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কে নিয়েছে-তদন্তে তার উত্তর অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু তার পাশাপাশি আরও বড় প্রশ্ন হলো, টাকা যদি দীর্ঘ সময় ধরে কমতে থাকে, তাহলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা সেটি শনাক্ত করতে পারল না কেন?
যদি ভোল্টের টাকা প্রতিদিন যাচাই করা হয়ে থাকে, তাহলে ঘাটতি এত বড় হলো কীভাবে? যদি নিয়মিত অডিট হয়ে থাকে, তাহলে অডিটে কী পাওয়া গিয়েছিল? যদি ভোল্টে প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে, তাহলে বহিরাগত একজনের নাম মামলায় এল কীভাবে?
আর যদি অভিযোগ অনুযায়ী টাকা বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থের গতিপথ শনাক্ত করার মতো ব্যাংকিং বা ডিজিটাল প্রমাণ আছে কি না-সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ।
একজন ক্যাশ ইনচার্জকে গ্রেপ্তার করা কিংবা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা একজন বহিরাগতকে আসামি করা তদন্তের একটি অংশ হতে পারে। কিন্তু তাতে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি শেষ হয়ে যায় না। বরং সেটিই আরও সামনে আসে।
কারণ ব্যাংকের ভোল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কমে যাওয়ার ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে শুধু টাকা সরানোর ব্যক্তিকে খুঁজে বের করাই যথেষ্ট নয়, সেই টাকা সরানোর সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে, সেটিও বের করতে হবে।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীর গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। জাফরুল্লাহর পরিবার বরং তাঁকে নির্দোষ দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলছে।
সুতরাং তদন্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো ব্যক্তিকে আগে থেকেই দায়ী করা নয় বরং টাকার প্রকৃত গতিপথ, ভোল্টের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা এবং দীর্ঘ সময়ের হিসাব-তদারকির বাস্তব চিত্র বের করা।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগের সঙ্গে যাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই, তাঁদেরও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। এই তদন্তে তাই শুধু দুটি নাম যথেষ্ট নয়।
প্রয়োজন ভোল্টের চাবি থেকে সিসিটিভি, ক্যাশবুক থেকে অডিট রিপোর্ট, ব্যাংক রেকর্ড থেকে ডিজিটাল যোগাযোগ-সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ যাচাই।
কারণ ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কেবল একটি মামলার অঙ্ক নয়। এটি যদি সত্যিই গ্রাহকদের আমানত হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রতিটি টাকার হিসাব চাওয়ার অধিকার রয়েছে সেই গ্রাহকদের।
আর অগ্রণী ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি সম্ভবত এটিই-টাকা যদি সত্যিই এতদিন ধরে কমে থাকে, তাহলে ব্যাংক তা জানতে পারল না কেন? এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর ছাড়া শুধু দুই আসামির গ্রেপ্তারে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার রহস্যের পর্দা উঠবে না।
