চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) এর কার্যালয়ে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেবিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হামলার হুমকি দেওয়া হয়।
এর দুই দিন পর, ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, চকবাজার থানার মনুমিয়াজী লেইনের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র এবং কাঁচের দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে।
এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অফিস থেকে ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল।
ঘটনার পর চকবাজার থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৫, ৩৮০, ১০৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নির্দেশনায় চকবাজার থানা, সিএমপির একাধিক বিশেষ টিম এবং র্যাব-৭ যৌথভাবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সিএমপির তথ্যমতে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মানবপাচার, মাদক ও ছিনতাইয়ের ৫টি, ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি, চোরাচালান ও দ্রুত বিচার আইনের ১২টি, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ৬টি, মো. সুমনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র ও মাদকসহ ৬টি, মো. মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মারামারির ৭টি এবং মো. নয়নের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির ৮টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
