সিএনজি চুরির সূত্র ধরে বায়েজিদ-বহদ্দারহাটে চোরচক্রের পুলিশের জোড়া অভিযান

তদন্তে বেরিয়ে এলো আন্তঃজেলা চোরচক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০৮

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চুরি হওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশার রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে আন্তঃজেলা সিএনজি চোরচক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় চক্রটির মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-চক্রের মূলহোতা মো. এরশাদ (৩৮) এবং তার সহযোগী মো. শামিম মাতব্বর তামিম (৩০)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ শেরশাহ কলোনি ও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ জুলাই রাতে। আনোয়ারা উপজেলার শিলাইগড়া এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় সিএনজি অটোরিকশাচালক মফজল আহমদ তার পারিবারিক মালিকানাধীন সিএনজি অটোরিকশাটি বাড়ির উঠানে রেখে রাতে নিজ বাড়িতে যান।

কিন্তু পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তার চোখে পড়ে অস্বাভাবিক দৃশ্য-বাড়ির গেট ও সিএনজি অটোরিকশার তালা ভাঙা। তবে গাড়িটির কোনো হদিস নেই।

স্বজন ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও সিএনজিটির সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেন মফজল আহমদ।

চুরি যাওয়া সিএনজি অটোরিকশাটির আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

মামলাটি তদন্তে নেমে পুলিশ চুরির ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরচক্রের সদস্যদের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বায়েজিদ শেরশাহ কলোনি ও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচ থেকে মো. এরশাদ ও মো. শামিম মাতব্বর তামিমকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া মো. এরশাদ আন্তঃজেলা সিএনজি চোরচক্রের মূলহোতা।

তার বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটির কাউখালী এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান ও চান্দগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় সিঁধেল চুরি ও মাদক আইনে ছয়টিরও বেশি মামলা রয়েছে।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানান, গ্রেফতার হওয়া মো. এরশাদ আন্তঃজেলা সিএনজি চোরচক্রের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয়টিরও বেশি মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাশাপাশি চুরি যাওয়া সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।

পুলিশের এই অভিযানের মধ্য দিয়ে একটি সিএনজি চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আন্তঃজেলা চোরচক্রের কার্যক্রমের যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে চক্রটির অন্য সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আশাবাদী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।