চট্টগ্রামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
তিনি বলেছেন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই উন্নয়ন হতে হবে প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রেখে।
গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে আধুনিক ও টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) উত্তর পাহাড়তলীতে ইস্পাহানি কমপ্লেক্সের পিটিএল ট্রেনিং সেন্টারে পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেডের লিড প্লাটিনাম সনদ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চউক চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানে পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেডের অর্জনকে চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) দেওয়া আন্তর্জাতিক লিড প্লাটিনাম সনদ অর্জনকে তিনি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
চউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘উন্নয়ন ও শিল্পায়ন প্রয়োজন হলেও তা যেন প্রকৃতিকে ধ্বংস করে না হয়।’ গাছপালা সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই দর্শন ধারণ করলে একদিকে শিল্পায়ন এগিয়ে যাবে, অন্যদিকে সুরক্ষিত থাকবে পরিবেশও।
তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার শুধু পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে না, একই সঙ্গে সম্পদ-সাশ্রয়ী ও টেকসই নগর গড়ে তুলতেও সহায়তা করে।
নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাই পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রামে এসেছেন।
এমন একটি ঐতিহাসিক দিনে পাহাড়তলী টেক্সটাইলসের লিড প্লাটিনাম সনদ অর্জন ও সনদ গ্রহণও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
চউক চেয়ারম্যানের মতে, পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেডের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, এটি চট্টগ্রামের শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্যও একটি দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পাহাড়তলী টেক্সটাইলসের মডেল অনুসরণ করলে চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
শিল্পায়নের গতি যেন প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট না করে-এই বার্তাই উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বৃক্ষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের শিল্পখাতকে আরও টেকসই করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন চউক চেয়ারম্যান।
