লোহাগাড়ায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৭

রায়হান সিকদার, লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনে চলছে লোহাগাড়া উপজেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমিরাবাদ জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এছাড়াও বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক ও সীমানাপ্রাচীর না থাকায় রয়েছে নানান সমস্যা। এতে শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে না সমস্যায়। ফলে বিদ্যালয়টিতে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে,জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়,উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জনকল্যাণ এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টির দ্বিতল বিশিষ্ট একটি পরিত্যাক্ত ভবনের নিচতলায় শ্রেণী কার্যক্রম চলতেছে। ভবনের বিভিন্ন দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকেও পলেস্তারা খসে পড়ছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এছাড়াও জরাজীর্ণ ভবনের তিনটি রুমেও ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। অনেক আগেই দরজা ও জানালা ভেঙে গেছে। বৃষ্টি হলেই কক্ষের মধ্যে পানি পড়ে। বিদ্যালয়ের টয়লেটের অবস্থাও জরাজীর্ণ। পুরাতন হওয়ায় স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা পরিবেশেই টয়লেটে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এসব কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

জানা যায়, স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়ে একটি ভবন তৈরি করা হয়। যা অনেকদিন আগেই পরিত্যাক্ত হয়ে যায়। ২০২২ সালে আরও একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও ছাত্র-ছাত্রী বেশী হওয়ায় পুরোনো জরাজীর্ণ ও পরিত্যাক্ত ভবনটিতে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ জানায়, কয়েকদিন আগে ভবনের পাশে বসেই আমরা খেলছিলাম। তখন ভবনের পলেস্তারা খসে আমাদের পাশে পড়ে। খুব ভয় পেয়েছিলাম।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা জানায়, তাদের বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা অনেক খারাপ। ভবনের দরজা ও জানালা থাকলেও একটু বৃষ্টি হলে তাদের বইপত্র ভিজে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুন কান্তি পাল বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনের যে অবস্থা তাতে যেকোনো মুহূর্তে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষই জরাজীর্ণ। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ক্লাস করতে পারছে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনেক আশা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে, সেখানে এসে যদি কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষতি হয় তার দায়ভার কে নেবে?

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ডাক্তার হেলাল উদ্দীন জানান,বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনের অবস্থা খুব খারাপ। ভবনটির চাল দিয়ে পানি পড়ে। তাছাড়া দরজা জানালা দিয়েও বৃষ্টির পানি ও বাতাস হলে ক্লাস করাতে সমস্যা হয়। বইপত্র সব ভিজে যায়। ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। দেওয়ালে ফাটল ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকি নিয়েই শিশুদের পাঠদান করাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন জরুরিভাবে দরকার। স্কুলের মাঠের অবস্থাও ভালো না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বায়েজীদ বিন আখন্দ
বলেন, পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়ে থাকলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতি ক্রমে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। একই সাথে শিক্ষার্থী সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যমান নতুন ভবনের সম্প্রসারণ বা ভিন্ন নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।বিষয়টি মাধ্যনিক শিক্ষা অফিসারের সাথে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান।