back to top

কর্ণফুলী-হালদা রক্ষা ও সবুজায়নে জোর, চসিকের নতুন কর্মপরিকল্পনা

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬ ১২:৫৯

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরজুড়ে ১০ লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, “গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না।” তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ নতুন করে অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে।

গাছ মানুষের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এ কারণে বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় পর্যায়েও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।”

তিনি মনে করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম নগরীকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মেয়র জানান, কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের সব মিড-আইল্যান্ড ফুল ও সবুজে সাজানো হবে।

একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি পরিচ্ছন্নতা ও উদ্যান বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, নগরীর সৌন্দর্য অনেকাংশে তাঁদের শ্রম ও আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে।

পরিকল্পিতভাবে ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতির প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, “চট্টগ্রাম প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি নগরী।

এখানে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল, উপত্যকা ও জলাশয় রয়েছে।” তিনি বলেন, প্রকৃতি প্রদত্ত এই সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতির মুখে পড়বে।

কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল-নদীতে গিয়ে জমা হয়ে পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। মেয়র বলেন, নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ উদ্যোগে আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুললে ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সহজ হবে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে প্রকৃতিও তার প্রতিক্রিয়া দেখাবে।” তাই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গাছেরও জীবন আছে এবং বৃক্ষরোপণ একটি মহৎ ও সওয়াবের কাজ।

একটি গাছ যতদিন বেঁচে থাকে, ততদিন মানুষ ও পরিবেশের উপকার করে। সে কারণে তিনি প্রত্যেক নাগরিককে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন জোনে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।