চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর শোক ও আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবারও একটি গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এবার ওপর থেকে ভারী লোহার বস্তু পড়ে মো. আলাউদ্দিন নামে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
গতকাল (রোববার) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার চৌধুরীঘাটা এলাকায় অবস্থিত বারাকা শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ইয়ার্ডে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় হঠাৎ ওপর থেকে একটি ভারী লোহার বস্তু নিচে পড়ে মো. আলাউদ্দিন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের বেসরকারি ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়।
আলাউদ্দিন সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রথমদিকে গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও পরে তা জানাজানি হয়। এতে শিপইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
ভয়াবহ ওই ঘটনার মাত্র দুদিনের মাথায় আবারও একটি শিপইয়ার্ডে শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় শিল্পখাতটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহিন।
তিনি বলেন, ৯ শ্রমিকের প্রাণহানির রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা প্রমাণ করে নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কতটা গাফিলতি রয়েছে। শিল্প খাতটিকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে সরকারের কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
দুর্ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সেক্রেটারি মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমিও শুনেছি এক শ্রমিক আহত হয়ে চট্টগ্রামের ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর বেশি আমি অবগত নই।
পরপর এমন ঘটনায় সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
একদিকে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, অন্যদিকে তার দুদিনের মাথায় আরেক শ্রমিকের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা-শিল্পাঞ্চলটির কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তাই যেন সামনে নিয়ে এসেছে।
